Home জাতীয় পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে: বিএনপি

পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে: বিএনপি

279
0

ঢাকা: পৌরসভা নির্বাচনে মনোননয়নপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরদের দ্বারা আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সেইসাথে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে ওইসব এলাকায় নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণারও দাবি জানিয়েছে দলটি। আজ শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন, তকদির হোসেন জসিম, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান রিপন অভিযোগ তুলে বলেন, ঢাকার ধামরাই, ময়মনসিংয়ের গৌরীপুর, ভোলার দৌলতখান, যশোরের কেশবপুর, বরগুনার বেতাগীসহ দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় আওয়ামী লীগের এমপি, দলীয় নেতা এবং তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের দ্বারা আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং অফিসাররা কোনো প্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে চুপ করে আছেন। এসব রিটার্নিং অফিসারদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাই। এখন দেখার বিষয় নির্বাচন কমিশন বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়? তাহলে প্রমাণিত হবে নির্বাচন কমিশনের মুরোদ আছে কি না? তবে আচরণবিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কী না তা নিয়ে দেশবাসীর মনে সংশয় থেকে যাবে বলেও মনে করেন আসাদুজ্জামান রিপন। বিভিন্ন পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের বিপক্ষের প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দিতে বাধা এবং কোনো কোনো জায়গায় ফরম ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করে ড. রিপন জানান, ফেনী জেলার সদর পৌরসভা, দাগনভুঁইয়া, পরশুরাম পৌরসভার ৩৩টি কাউন্সিলর পদে অন্য কাউকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি সরকারি দলের লোকজন। এছাড়া ফেনী, দাগনভূঁইয়া পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দিতে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। ফেনীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শাসকদলের পক্ষ থেকে এভাবে মনোননয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যেসব এলাকায় প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দিতে বাধার ঘটনা ঘটেছে নির্বাচন অংশগ্রহণমুলক করার জন্য সেখানে পুন:তফসিল ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা আরো বলেন, বিএনপির পর্যবেক্ষণ আমলে না নেয়ার কারণেই বিভিন্ন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করি, যতটুকু ব্যর্থতা আছে, তা স্বত্ত্বেও নির্বাচন প্রতিযোগিতমূলক করতে পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী যাতে নির্ভয়ে প্রচারণা চালাতে পারেন এবং কর্মীদের যাতে আর গ্রেফতার করা না হয়। ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারে। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ না নেয়া এবং মৌন আচরণে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কী না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া নিত্যনতুন সংশোধনী এনে নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান রিপন।

তিনি বলেন, আমরা আগেই সারাদেশে গণ-গ্রেফতার বন্ধের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। জামালপুর জেলার সাত উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার যৌথ বাহিনী ৮৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এতে এলাকায় নির্বাচনের পরিবর্তে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া নীলফামারীতে ৪৭ জন, সাতক্ষীরায় ৩৫ জন, চট্টগ্রামে ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

Previous articleপৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের সুযোগ নেই: হানিফ
Next articleপিছিয়ে গেলেন ফারিয়া