বিএনপিকে সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা এবং জনগণের ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

0
216

ঢাকা: অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা এবং জনগণের ওপর আস্থা রাখার জন্য বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটা কথাই বলবো যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন তাহলে নানা কথা না বলে গণতন্ত্রের চর্চা করুন। সেটাই বাস্তবতা। ভিন্ন পথে ক্ষমতা দখলে বিএনপি’র অপচেষ্টার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেজন্য তারাতো চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনো সাড়া লাভে ব্যর্থ হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যাদের ওপর আশা করেন, তারাও এতে সাড়া দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি তাঁর ভাষণে, দেশের উন্নয়নের ধারা এবং ২১ বছর পর যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারসহ বিভিন্ন হত্যাকান্ডের বিচার শুরুর মাধ্যমে দেশে যে সামাজিক ন্যায় বিচারের ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকে অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার জন্য দেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার (বেগম জিয়া) এমন একটা চেষ্টা যে এমন কিছু হোক যেন তাকে (তৃতীয় কেউ) তারা নাগর দোলাতে চড়িয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। ওই আশাও এখন দুরাশা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে তারা (বিএনপি) প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তিনি তাদের ডেকেছেন তারা আলোচনা করবেন। রাষ্ট্রপতি সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন। আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস জনগণের ওপর আছে। আমরা জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেছি। সেজন্য জনগণের ওপর আমরা কখনও বিশ্বাস ও আস্থা হারাই না। কাজেই জনগণই আমাদের মূল শক্তি। সেটাই আমি বিশ্বাস করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে উন্নয়নের ধারা তাঁর সরকার সূচনা করেছে তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, একই সাথে মক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, ১৫ আগস্টের খুনীদের বিচার করেছি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার হচ্ছে। এরকম বহু অন্যায়-অপরাধ এবং জঙ্গিবাদের বিচার চলছে। কাজেই এগুলো অব্যাহত রাখতে হবে। আর আজকে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে চাই। আর্থ-সামজিক উন্নয়নের চলমান গতিকে আমরা ধরে রাখতে চাই। এদেশে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কুষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদরুদ্দিন আহমেদ কামরান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও শাহে আলম মুরাদ বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা এখনও দেশের সেবা করে যাচ্ছি এবং আওয়ামী লীগসহ আমাদের জোট এবং সহযোগী স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি। আমাদেরকে জনগণ যদি ভোট দিয়ে আবার নির্বাচিত করেন তাহলে এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে। রাজাকার- আল-বদর যাদের আমরা বিচার করেছি তারা আবার এদেশে যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে এদেশের মানুষের ওপর তারা ’৭১’র মতো ভয়াবহ গণহত্যা চালাবে। এসব করতে খালেদা জিয়ার এতটুকু যে দ্বিধা নেই, সেটা বাংলাদেশের মানুষ বোঝে।
জনগণের ওপর তাঁর বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি তাঁদের হাতে ক্ষমতা এলে দেশ ও জাতি কিছু পায়। জনগণও সেটা ভালোভাবে জানে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সকল সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ থেকেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। কাজেই যে মর্যাদাটা আজকে বিশ্বব্যাপী সৃষ্টি হয়েছে সেটা ধরে রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকেই আবারো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।
এসময় মানুষ পুড়িয়ে হত্যাসহ, আন্দোলনে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত এবং একাত্তরের রাজাকার-আলবদরদের নিয়ে সরকার গঠন করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচারকারি দুর্নীতিবাজ চক্রকে মানুষ কেন ভোট দেবে সে প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: বাসস

Print Friendly, PDF & Email