বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকনের ফাঁসির আদেশ

0
520

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৬টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফরিদপুর নগরকান্দার পলাতক রাজাকার ও বিএনপি নেতা এমএ জাহিদ হোসেন খোকনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন। বেলা ১১টা থেকে তিন বিচারপতি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই রায় পড়ে শোনান। স্বঘোষিত রাজাকার খোকনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১১টি অভিযোগ এনেছিল। এর মধ্যে ১০টিই প্রমাণিত হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল প্রথম অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় খোকনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেকটিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২, ৩, ৪ ও ১১ নম্বর অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ নম্বর অভিযোগে ৫ বছর, ৩ নম্বরে ১০, ৪ নম্বরে ২০ এবং ১১ নম্বর অভিযোগে খোকনকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, একাত্তরে স্বঘোষিত খোকন রাজাকারের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় জাতি সুবিচার পেয়েছে। আরেকটি কলঙ্কের মোচন হয়েছে। আশা করছি, আপিল হলে সেখানেও তার এই সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকবে।
তবে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস শুক্কুর খান বলেছেন, ‘রায়ে আসামি সুবিচার পাননি। আশা করছি উচ্চ আদালতে তিনি খালাস পাবেন।’
এ সময় শুক্কুর খান অভিযোগ করেন, ‘আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ এবং সহযোগিতা করা হয়নি। সেটি করা হলে আসামি সসন্মানে খালাস পেতেন।’
এছাড়া সাক্ষীদের আনা সম্ভব হয়নি। তারা এসে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিতে পারলে আসামি খালাস পেতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এই রায়ের মধ্যদিয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে মোট ১২টি রায় আসলো। গত ১৭ এপ্রিল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে যে কোনো দিন রায় ঘোষণার জন্য খোকনের মামলাটি অপেক্ষমান রাখে ট্রাইব্যুনাল।
২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর থেকে গত ২ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন দাশসহ খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে মোট ২৪ জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। তবে পলাতক এই আসামির পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিল না। আসামিপক্ষের সরকার নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুক্কুর খান মোট ৩০ জন সাক্ষীর তালিকা দিলেও কাউকে আনতে পারেননি।
২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে ১৬ জন নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, ২ জনকে ধর্ষণ, ৯ জনকে ধর্মান্তরিত করা, ২টি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, সাতজন গ্রামবাসীকে সপরিবারে দেশান্তরে বাধ্য করা ও ২৫ জনকে নির্যাতনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ আনা হয়।
গত বছরের ৯ অক্টোবর ১১টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে খোকনের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। বিচারের শুরু থেকেই তিনি পলাতক।

Print Friendly, PDF & Email