Home জাতীয় বিদেশী সহায়তা পেতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন: টিআইবি

বিদেশী সহায়তা পেতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন: টিআইবি

312
0

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশেই কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা নেই। আন্তর্জাতিক ফোরামে সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সরকারেরই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও দফতর পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নয় বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় প্রকাশ করা হয়েছে।
টিআইবি বলছে, বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ পাঁচ শতাংশ কমানোর অঙ্গিকার করেছে। কিন্তু বিদেশী সহায়তা পেলে এটা ১৫ শতাংশ কমাতে পারবে সরকার।
আর ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কার্বন নিঃসরণে বিদেশী সহায়তা পেতে প্রতিক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। দেশে সুশাসনের মূল উপাদান না থাকলে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।
টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাটির প্রতিবেদন উপস্থাপনে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের ও জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন ইউনিটের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম. জাকির হোসেন খান।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) পরিচালক ও গবেষক ড. এ. কে. এনামুল হক।
উল্লেখ্য, ১৭ নভেম্বর ২০১৬ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০১৭ সময়ে গবেষণার তথ্য সংগৃহীত হয়। বাংলাদেশে ৬৪ জন, নেপালে ৮০ জন, মালদ্বীপে ৬১ জন, ভারতে ৫৮ জন, শ্রীলংকার ৬৩ জন ও পাকিস্তানের ৫০ জনকে প্রশ্নমালা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি মোট ১৪০ জনের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত।
গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসকরণ সম্পর্কিত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বিষয়ে সরকারি অংশীজনের তুলনায় বেসরকারি অংশীজন অনেক বেশি ধারণা রাখে। দক্ষিণ এশিয়ার সরকারি ও গবেষক গোষ্ঠী জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি বা পদক্ষেপ বিষয়ে এনজিও ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশি ধারণা রাখেন। বাংলাদেশে নৌপথ কিংবা রেলপথ ব্যবহার করে যে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো যায় সে বিষয়ে বেসরকারি অংশীজন অনেক কম ধারণা রাখেন। একইভাবে অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক পাখা পরিবর্তন করেও যে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো যায় সে বিষয়ে তাদের ধারণা স্পষ্ট নয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কার্বন নিঃসরণ কমানোর সহজ ১০টি প্রধান কৌশল হলো- নগরে যানজট কমানো, নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নগরে যান নিয়ন্ত্রণ কৌশল উন্নয়ন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, ইটের ভাটায় জ্বালানি পরিবর্তন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধুনিকায়ন, শহরে বর্জ্য হতে জৈব সার উৎপাদন, বাজারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রের প্রমিতকরণ, গ্রামাঞ্চলে উন্নত চুলার ব্যবহার বাড়ানো এবং কারখানায় জ্বালানি অডিট ব্যবস্থা প্রবর্তন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার কার্বন নিঃসরণ মাত্রা যদিও বিশ্বের মাত্র ছয় শতাংশ তবুও ১৯৯৭ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের গড় বৃদ্ধির হার প্রায় তিন শতাংশ যা বিশ্বের গড় বৃদ্ধির হারের তুলনায় বেশি (বিশ্ব গড় বৃদ্ধির হার এক শতাংশ)।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য বিদেশী সহায়তা প্রাপ্তির পূর্বেই বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু তহবিল গঠন করেছে যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ বা কমানোর মূল দায়িত্ব সরকারের। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষেরও দায় রয়েছে। তবে যে উদ্যোগের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব, তা খুবই ব্যায়বহুল।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আলোচনা শুরুর প্রথম থেকেই বাংলাদেশ বিভিন্ন পর্যায়ে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

Previous articleআমরা নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাসী: নজরুল ইসলাম খান
Next articleজগন্নাথপুর উপজেলায় ‘চিলাউড়া সমাজকল্যান পরিষদ’ নামে সংগঠনের যাত্রা শুরু