ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে ৩ ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

0
203

Logo Chatra Lige 01
দিনাজপুর: ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তিন নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও কৃষি অনুষদের পিএইচডি গবেষক অরুণ কান্তি রায়, বিজনেস স্টাডিজ লেভেল-৪ সেমিস্টার-১-এর ছাত্র ও ডরমেটরি-২ হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম জাহিদ হাসান ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের লেভেল-২ সেমিস্টার-১ বর্ষের ছাত্র অনিন্দ্য দত্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নজিবুর রহমান এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের অভিযোগ ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অরুণ কান্তি রায় ও এস এম জাহিদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল।
ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি ও রিজেন্ট বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশের আলোকে অভিযুক্ত তিনজন ছাত্রকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সাত দিনের সময় দেয়া হয়। পরে তারা এর জবাব দেন।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্তদের জবাব পর্যালোচনা করে সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ওই তিন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানার পরপর বেলা একটার দিকে বহিষ্কৃত ছাত্ররা দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন অরুণ কান্তি রায়।
তিনি ওই বহিষ্কারাদেশ অবৈধ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। অন্যথায় ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেয়া হয়।
এদিকে, বহিষ্কারাদেশে পরপরই বিশ্ববিদ্যালয শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখারুল ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে ডি বক্সের সামনে মানববন্ধন করেন। তারা মাইকে, ভিসিসহ শিক্ষকদের নাম ধরে অশ্লীল গালাগাল করেন বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুসরণ করে ডিসিপ্লিনারি কমিটি দোষী ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের যে সুপারিশ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা তা অনুমোদন করেছেন।’

Print Friendly, PDF & Email