Home জাতীয় যৌন হয়রানির অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া হলো মাদ্রাসা

যৌন হয়রানির অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া হলো মাদ্রাসা

385
0

নাটোর: একজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নাটোরের বড়াইগ্রামের একটি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযুক্ত দু শিক্ষককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের অভিযোগের পর তদন্ত করে প্রশাসন এ ব্যবস্থা নিলেও অভিভাবকদের কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে ষড়যন্ত্রও বলছেন।

বড়াইগ্রাম থানার নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানিয়েছেন অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় তদন্ত করে তারা যৌন হয়রানির ঘটনার প্রমাণ পেয়েছেন।

আর সে কারণেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে স্থানীয় আয়েশা সিদ্দিকী আবাসিক কওমি মাদ্রাসার অভিযুক্ত দু শিক্ষককে এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ঘটনাটি সত্যি বলে প্রমাণ পেয়েছি। মাদ্রাসার কোন কাগজপত্রও তারা দেখাতে পারেনি। আর যৌন হয়রানির বিষয়টি অধ্যক্ষ নিজেই স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন শাস্তি তিনি মেনে নেবেন। এর পর মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়ে তাদের কারা ও অর্থদণ্ড দিয়েছি”।

অভিযোগকারী অভিভাবক বলছেন বেশ কিছুদিন আগেই তার কন্যার তার কাছে শিক্ষকের বিষয়ে অভিযোগ করেছে যা তিনি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “রোজার আগেই ঘটনাটি ঘটেছিল। পরে প্রশাসনকে জানালে তারা তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে”।

তবে ওই মাদ্রাসার আরেকজন অভিভাবক ইয়ার আলীর অভিযোগ একি এলাকায় তিন ভাইয়ের তিনটি মাদ্রাসার মধ্যকার বিরোধের জের ধরে এই দু শিক্ষক ও মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একি জায়গায় তার বড় ভাইয়েরও মাদ্রাসা ছিল। প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের কারণেই মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম বলছেন তিন মাদ্রাসার মধ্যে বিরোধ রয়েছে সেটি সত্যি তবে মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে সেটিও তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা কত আর এর শিক্ষার্থী সংখ্যাই বা কত এর কোন আনুষ্ঠানিক হিসেব নেই। নানা দল-উপদলে বিভক্ত কওমি মাদ্রাসাগুলোর রয়েছে অন্তত ১৯টি আলাদা বোর্ড যা তারা নিজেরাই গঠন করে নিয়েছে।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বলছে এসব বোর্ডের ওপর সরকারেরও কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আর সে কারণেই কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষা পদ্ধতি বা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোন ব্যবস্থাও নেয়া সম্ভব হয়না।

Previous articleরাজনৈতিক কর্মীদের খাই খাই রব
Next article১৫ আগস্ট দেশের সর্বনাশের দিন: কাদের সিদ্দিকী