রাজনৈতিক কর্মীদের খাই খাই রব

0
490

ড. আবদুল লতিফ মাসুম: আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা মাঝে মধ্যে ভালো ভালো কথাও বলেন। গত ১২ আগস্ট ২০১৫ আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি, সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একটি অপ্রিয় সত্য কথা বলেছেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার স্বাদ ভবিষ্যতেও পাবেন; কিন্তু এই যে খাই খাই করা, দলকে খাটো করা, প্রধানমন্ত্রীকে খাটো করা, নিজেকে খাটো করা সেই অভ্যাসগুলো ছাড়তে হবে।’ ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কথা শোনা গেলেও সৈয়দ আশরাফের খাই খাই রবের কথা শোনা যায়নি। তিনি এমন সময় এ কথা বললেন, যখন আওয়ামী নেতাকর্মীদের খাই খাই মানসিকতা গ্রাম থেকে রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলাদেশের এমন কোনো সেক্টর, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান, এমন কোনো ব্যবস্থা বা ব্যবসায় অবশিষ্ট নেই, যা আওয়ামী নেতাকর্মীদের খাই খাই রব থেকে রেহাই পেয়েছে।

বাংলাদেশে এখন যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে, তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বলা হয় : এ গভর্নমেন্ট বাই দি পার্টি দল নিয়ন্ত্রিত সরকার। এ ধরনের দলীয় সরকারব্যবস্থা পৃথিবীতে বিরল নয়। সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মার্কসবাদী আদর্শে দীক্ষিত নেতাকর্মীরা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। সেখানে সততা, নিষ্ঠা, নৈতিকতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা কর্মধারাকে নিয়ন্ত্রণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে, আদর্শের ব্যতিক্রম হলে পরাজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আওয়ামী লীগ সেই ধারায় শিক্ষিত এবং দীক্ষিত হয়ে ওঠেনি। মূলত তৃতীয় বিশ্বের আর সব রাজনৈতিক দলের মতো প্রায়োগিক সুবিধাবাদই তাদের আদর্শ। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবাই ছিলেন খাই খাই মানসিকতার ঊর্ধ্বে। পাকিস্তানি শাসক-শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ যখন আন্দোলন-সংগ্রাম-যুদ্ধ পরিচালনা করে, তখন চরম জাতীয়তাবাদে এরা উদ্বুদ্ধ হয়। এই চরম জাতীয়তাবাদ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য আশীর্বাদ হলেও আর্থসামাজিক জীবনের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দেয়। যেহেতু এরা স্বাধীনতার জন্য দুঃখ, কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করেছে, সেজন্য এদের মধ্যে চরম মনোভাব পোষণ করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু প্রকারান্তরে এরা এই দেশ, এই দেশের সম্পদ এবং সব কিছুকে কুক্ষিগত করার মানসিকতায় লালিত হওয়াটা ছিল অস্বাভাবিক। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে দেশপ্রেমের যে ফল্গুধারা মুক্তিযোদ্ধা এবং কোটি কোটি মানুষের মধ্যে বিরাজমান ছিল তা ইতিবাচক পথে প্রবাহিত করতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যখন স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেয়া সব দল ও মতের তরফ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়, তখন এরা তা প্রত্যাখ্যান করে।
সৈয়দ আশরাফ সেদিন খাই খাই রবের কথা বলেই ক্ষান্ত হননি। বরং তার দীর্ঘ বক্তৃতায় আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সতর্কতার আহ্বান ছিল। ’৭৫ সালের ঘটনার প্রেক্ষিত তুলে ধরে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আমরা বাঙালি জাতি কি ওই সময় ছিলাম না? বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা ছিল না? আমাদের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী ছিল না? আমাদের রাজনৈতিক দল ছিল না? ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ছিল না? তো কোথায় ছিলেন তারা?… যখন আমাদের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকে না, যখন আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখি না, তখনই কেবল এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।’ এ বক্তব্যের মাধ্যমে সৈয়দ আশরাফ ফিরে গেছেন সেই অতীতে যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া, অর্থনৈতিকভাবে লুটেরা এবং সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন। তখন অবস্থা ছিল এমন যে, ‘ওলট-পালট করে দে মা, লুটেপুটে খাই’। এ সময় ব্যবসায় চলে গিয়েছিল আওয়ামী ব্রিফকেসে। প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত হতো গোষ্ঠীগত স্বার্থে। মার্কসবাদীদের ভাষায়, পাতি বুর্জোয়া আওয়ামী লীগ বুর্জোয়া শ্রেণীতে উন্নীত হয়। ওই সময়ে এমন কোনো আওয়ামী লীগার খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন হবে, যে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়নি। আর এখনকার আওয়ামী লীগারদের কথা? এরা কলাগাছেও সন্তুষ্ট নন। এরা তালগাছ হয়েছেন। যা হোক, ওই সময়ে এসব কারণে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ঘাটতি না হলেও প্রশাসনিকভাবে তার সরকার অজনপ্রিয় হয়ে পড়ে। তখন সুশাসনের মাধ্যমে অথবা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান না করে ‘লাল ঘোড়া দাবড়ে দেয়া হয়’। ‘এক নেতা এক দেশ’ তত্ত্ব দিয়ে রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা হয়। একদলীয় ব্যবস্থাটি যেহেতু সোভিয়েত স্টাইলের, সেজন্য অনেকেই বাকশাল প্রবর্তনের জন্য কমিউনিস্টদের দায়ী করেন। ১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা মনোযোগ দিয়ে শুনলে বোঝা যায় তিনি ‘দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে’ একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ ব্যবস্থায় সম্মতি দেন। গণতন্ত্র মানে হচ্ছে, সব ক’টা দরজা, জানালা খোলা থাকা। আর বন্ধ পরিবেশে অন্ধকার নেমে আসে। তাই ঘটেছে যা কারো কাম্য ছিল না। ভোররাতের অশ্বারোহীরা একটি অস্বাভাবিক পরিবেশের কারণে রক্তপাত ঘটানোর দুঃসাহস দেখায়। এই অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টিতে আওয়ামী নেতাকর্মীদের খাই খাই মানসিকতা একটি বড় কারণ ছিল। একটি ছোট উদাহরণ। ঢাকা শহর চকবাজার ইউনিটের এক নেতা বঙ্গবন্ধুকে গিয়ে বললেন, তিনি নিঃস্ব, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে তার সব কিছু লুটপাট হয়ে গেছে। তিনি যেহেতু ব্যবসায়ী সেহেতু পরিত্যক্ত কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানির একমাত্র পরিবেশক করলে তিনি বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধু তার আবেদন মঞ্জুর করেন। তার ফল হয়েছিল এই যে, ছয় আনার টুথপেস্টের দাম হয়েছিল ছয় টাকা। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাটি জানি বলে লিখতে পারলাম। এভাবে হাজারো উদাহরণ দেয়া যায়, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে বঙ্গবন্ধুর মহানুভবতা, দয়া, মায়াকে আওয়ামী লীগের লোকেরা অপব্যবহার করেছেন। সৈয়দ আশরাফের বক্তৃতায় তার অনুরণন আছে।

আওয়ামী রাজনৈতিক কর্মীদের খাই খাই রব সমীক্ষার জন্য যদি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একটি গবেষণা পরিচালিত হয় তাহলে ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের তরফ থেকে ৪০ দিনের কর্মসূচি, ভিজিএফ, খাদ্য সাহায্য, ত্রাণসামগ্রী বা যেকোনো অনুদান, ঋণ, ভর্তুকিÑ সবক’টির হকদার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এমন যে, স্বচ্ছতার দাবিদার মতিয়া চৌধুরী তার কলের লাঙল চাষিরা না পেয়ে পান আওয়ামী নেতাকর্মীরা। সেটা লিখলেও পত্রিকা সম্পাদক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি অবশ্যই আওয়ামী লীগার হতে হবে। তা সে যত মূর্খ আর অপদার্থ হোক। তারা সাধারণত দুটো কাজ করেন। প্রথমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নেয়া; দ্বিতীয়ত, নিয়োগবাণিজ্য। নিয়োগ পেতে দুটো শর্ত। অর্থ এবং আওয়ামী লীগ-দুটোই থাকতে হবে। ইউনিয়নের পাঁচ হাজার টাকার কাজ এবং রাজধানীকেন্দ্রিক ৫০০ কোটি টাকার কাজÑ সবই আওয়ামী লীগকে পেতে হবে। এ জন্য নিত্যদিন পত্রিকায় দেখতে পাবেন টেন্ডারবাজি, গ্রুপ ফাইটিং, মারামারি এমনকি খুন-জখম। মাগুরায় যে মর্মান্তিক ঘটনায় মায়ের পেটের শিশু গুলিবিদ্ধ হলো তার কারণ দুই শক্তিধর আওয়ামী লীগ নেতার লুটপাটের দ্বন্দ্ব। ব্যবসায়, বাণিজ্যে একচ্ছত্র লুটপাট করার জন্য এরা সরকারি সহায়তা পান। বিনা টেন্ডারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কুইক রেন্টাল ব্যবস্থা এর একটি উদাহরণ। ব্যাংক লুটপাট এদের কাছে কোনো অন্যায় নয়। এভাবে সরকারি ব্যাংকগুলো আওয়ামী লুটপাটকারীরা ফোকলা করে দিয়েছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিÑ এগুলো সবারই জানা কথা। ১২ আগস্টের পত্রিকায় আছে, ব্যক্তির সিদ্ধান্তে কিভাবে কোটি কোটি টাকা বণ্টিত হয়। অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, ব্যাংকগুলোতে অযোগ্য অর্থলোভী আওয়ামী ডাইরেক্টরদের বসিয়ে তিনি ভুল করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আওয়ামী অর্থমন্ত্রী এই কোটি কোটি টাকা লুটপাটকে অতি সামান্য বিষয় বলে মনে করেন। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি দিয়ে এরা কোটি কোটি টাকা লুটপাট করল। সেই অর্থমন্ত্রী বললেন, এরা এতই শক্তিশালী যে, এদের নাম বলা যাবে না। বাতাসে বাতাসে যে নামগুলো এসেছে এরা আওয়ামী কর্তৃত্বের শীর্ষ দেশেই অবস্থান করেন। এরা পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের আগেই শতকরা ভাগাভাগি নির্ণয় করেন। বিশ্বজোড়া চোরের খেতাব পাওয়ার পরও গুড ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট পান। একই কাজের জন্য রাজশাহীর সোনার ছেলেরা টাকা তুলে ভাগাভাগিতে না বনলে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। একজন নিহত হয়। সোনার ছেলেরা এতই সোনাদানার মালিক হয়ে পড়েছে যে, একটি কলেজের সভাপতিও গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়ে আছেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা স্বর্ণপদক থেকেও এরা সোনা চুরি করেন এবং চোরের পক্ষে বিনা দ্বিধায় সাফাই গান। এদের মন্ত্রীরা পেশাজীবীদের অপেশাদারিত্বের দায়িত্ব নেন। অর্থের বিনিময়ে সব অনর্থকে জায়েজ করেন। ড্রাইভারকে খুনের লাইসেন্স দেন। এদের দখল থেকে নদীনালা, খালবিল, রাস্তাঘাট, গরুর হাট এমনকি ফুটপাথও রক্ষা পায়নি। যে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এরা তারস্বরে চিৎকার করেন এদের সম্পত্তি এরাই লোপাট করেন।

এবার রাষ্ট্রীয়পর্যায়ের কিছু ধারণা নেয়া যাক। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় বিধিসম্মতভাবেই সংসদীয় দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় সব সম্পদ ও সুবিধা বণ্টনের হকদার। আজকের রাষ্ট্রবিজ্ঞানও স্বীকার করছে, সরকার হচ্ছে সম্পদের কর্তৃত্বপূর্ণ বণ্টনের মালিক-মোখতার। তবে সুশাসন তথা আইনের শাসনের মাধ্যমে যার যা প্রাপ্য সে তা পাবে, এটাই ন্যায়ের কথা। অভিযোগ শোনা যায়, পদ যত বড় সম্পদের ভাগও তত বড়। অভিযোগ আছে, বড় বড় প্রকল্প সহায়তা বিশেষত বিদেশী প্রকল্প সহায়তা থেকে বিরাট অঙ্কের অর্থ চলে যায় শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে। এক-এগারো পরবর্তী সামরিক সমর্থিত সরকার এ ধরনের কিছু কিছু উদারহণ স্পষ্ট করেছিল। এসব বিষয় গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় বলে মন্ত্রী-মিনিস্টারদের নাম জানা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিদেশে টাকা পাচার, বিদেশে বাড়ি করা, বিনিয়োগ করা ইত্যাদি বিষয়ক খবর মাঝে মধ্যেই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক কর্তৃত্ব যদি সৎ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতায় বিশ্বাস না করে তাহলে অধস্তন বড় এবং ছোট আমলা দুর্নীতির সহায়ক শক্তিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় এরকম যোগসাজশের অভিযোগ অভিনব নয়। আওয়ামী আমলে তা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়েছে বলে দুষ্টু লোকেরা বদনাম করে।
এমনিতেই আমাদের মতো উন্নয়নশীল তৃতীয় বিশ্বের দেশে নেতাকর্মীদের খাই খাই রব নতুন কিছু নয়। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ চেয়েছিলেন। তিনি নিজেই দুঃখ করে চোরের খনি বা চাটার দলকে তিরস্কার করতেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের বক্তৃতার নোটবুকে দেখা যায়, তিনি নেতাকর্মীদের এই খাই খাই রব সম্পর্কে ছিলেন অত্যন্ত ত্যক্ত-বিরক্ত। প্রায়শই তিনি এ সম্পর্কে নেতাকর্মীদের সতর্ক করতেন। হাফেজ্জী হুজুর একবার বলেছিলেন, ‘নেতাকর্মীদের খেই মিটাইতে গিয়েই দেশটি নিঃশেষ হয়ে যায়।’ আওয়ামী পরিবারে এটা একটি ব্যতিক্রম যে, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাকর্মীদের খাই খাই স্বভাব ছাড়তে অনুরোধ করেছেন। সব সময় এ ধরনের অনুরোধ, উপদেশ কর্তৃত্বের তরফ থেকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে গাছের পাতাটিও নড়েনি। আওয়ামী লীগসহ কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে এরকম উদাহরণ নেই। কার্যকর পরিবর্তন চাইলে আমাদের কাক্সিক্ষত সমাজ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে হবে। মনীষী এরিস্টটল কথিত নৈতিক রাষ্ট্র গড়ার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত আদর্শ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email