শান্তি বিঘ্ন করে আন্দোলন করা হবে না: আল্লামা শফী

0
255

Shofy 01
ঢাকা: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা আহমদ শফী বর্তমান সময়ে তাদের সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম, ১৩ দফা নিয়ে প্রচার- প্রচারনা, জনমত তৈরি সহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে জঙ্গি কানেকশন ও মাওলানা ফারুকী হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ সত্য নয় বলেও উল্লেখ করেন। তাছাড়াও আন্দোলনের জন্য কর্মসূচীর ঘোষণা, সেই সঙ্গে শান্তি বিঘ্ন সৃষ্টি করে, এ রকম কর্মসূচি না দেয়াসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন আল্লামা শফী। এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সৌজন্যে এ সাক্ষাতকারের পুরোটাই তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন কি থমকে গেল?
আল্লামা আহমদ শফী: ১৩ দফা দাবি আদায়ের ইমানি আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা বিভিন্ন পর্যায় থেকে সরকারের কাছে এ দফাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছি। কারণ, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্যই ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
প্রশ্ন: সামনে বৃহৎ কোনো কর্মসূচি আসছে কি?
আল্লামা আহমদ শফী: আমরা ১৩ দফা উত্থাপনের শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায়ের আন্দোলন পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু গত এক বছরেরও অধিক সময় ধরে দাবি আদায়ের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি চর্চায় সরকার আমাদের নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। বিভিন্ন সমাবেশ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনুমতি না দিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তা ছাড়া বিগত নির্বাচন ঘিরে বর্তমানে দেশে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হেফাজতে ইসলাম কোনোভাবেই শান্তি বিঘ্নকারী পদ্ধতিতে দাবি আদায়ের আন্দোলনে যাবে না। বর্তমানে আমরা দেশব্যাপী শানে রেসালাত সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও ঐক্য জোরদারে কাজ করছি। উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে ১৩ দফা দাবি আদায়ে অবশ্যই আমরা বড় কর্মসূচি দেব।
প্রশ্ন: হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকারের গোপন আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে।
আল্লামা আহমদ শফী: সরকারের সঙ্গে আঁতাত করার খবর গুজব। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। মুসলমান; এ পরিচয়ে লক্ষ-কোটি মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। কিন্তু শুধু আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা সমর্থকের পরিচয়ে কারও সঙ্গে সখ্যতা বা সংশ্লিষ্টতার কথা কেউ বলতে পারবেন না। আমার পুরো জীবনটাই কেটেছে কোরআন-হাদিস ও ইসলামী শিক্ষার প্রচার-প্রসার, ইমান-আকিদা রক্ষা, শিরক-বিদআত এবং ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের বৃহৎ ইসলামী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম হাটহাজারী পরিদর্শন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রায়ই সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, প্রতিনিধি দল ও বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব এসে থাকেন। অনেকে ব্যক্তিজীবনে সঠিক ইসলামী অনুশাসন পালনে দিক নির্দেশনা লাভ অথবা দোয়া নেওয়ার জন্য আসেন। আমাদের অরাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সবাই অবগত।
প্রশ্ন: রেলওয়ের জমি ইজারা পাওয়ার প্রতিদানস্বরূপ হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনে ভাটা দিয়েছে, এমন কথা শোনা যায়।
আল্লামা আহমদ শফী: এটা ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকবাদীদের অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসা যৌক্তিক প্রয়োজনে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনেক আগেই রেলওয়ের কিছু পরিত্যক্ত জায়গা ইজারা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। এ আবেদনের সঙ্গে হেফাজতের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। এটা একান্তই দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার বিষয়। তা ছাড়া রেলওয়ের সেই আবেদন প্রক্রিয়া এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
প্রশ্ন: ইসলামী চিন্তাবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা নুুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডে হেফাজতে ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে-এমন দাবি করছেন সুন্নি আলেমরা। এ ব্যাপারে হেফাজতের অবস্থান কী?
আল্লামা আহমদ শফী: মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গেই হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আমি নিজেও এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে খুনির গ্রেফতার ও কঠোর বিচার দাবি করেছি।
প্রশ্ন: হেফাজতে ইসলামের অনেক নেতার সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ শোনা যায়।
আল্লামা আহমদ শফী: দেশের উলামা-মাশায়েখগণ সবসময় সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার নিন্দা করেন। নিরীহ মানুষের ওপর হামলা, বোমাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের আমরা ঘোরতর বিরোধী। উলামায়ে কেরাম শান্তিতে কতটা বিশ্বাসী- হেফাজতের আন্দোলন ও শাপলা চত্বরের এত বড় ঘটনার পরও আমাদের চরম ধৈর্য ধারণে তা প্রমাণিত হয়েছে। এ দেশের আলেম সমাজ ও কওমি মাদ্রাসার সব কার্যক্রম উন্মুুক্তভাবেই পরিচালিত হয়। কওমি আলেম সমাজকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে যেসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। উলামায়ে কেরামকে সমাজে হেয় ও হয়রানি করার জন্য এটা করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। আমাদের কোনো কিছুতেই গোপনীয়তা নেই। গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের যে কোনো সময়ে আমাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই।
প্রশ্ন: ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাস করার কথা বলে আসছেন। আপনারা কী ধরনের শাস্তির বিধান রেখে আইন চান?
আল্লামা আহমদ শফী: আল্লাহ-রাসূল, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও কুৎসা রটনাকারীদের আমরা সবসময় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে থাকি। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করে সে আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করি। যাতে ভবিষ্যতে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন হয় এমন কিছু করতে কেউ দুঃসাহস না দেখায়। আমাদের দাবি হচ্ছে, ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email