সংশোধনী বিল পাস না হলেও ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন

0
272

বান্দরবান: দলীয় ভাবে অনুষ্ঠিত হলেও ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে গিয়ে হাতে সময় না থাকায় এবারের পৌর নির্বাচনে কেবলমাত্র মেয়রদের মধ্যে দলীয় প্রতীক বরাদ্ধের চিন্তা-ভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন। তবে এখনও বিষয়টি চুড়ান্ত হয়নি। এ সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। রবিবার বিকেলে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং আসন্ন পৌর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এমন আভাস দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মোঃ জাবেদ আলী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, একটি পৌরসভায় ১২টি ওয়ার্ডের অসংখ্য প্রার্থীর মধ্যে একই দলীয় প্রতীক বরাদ্ধের কারণে ভোটারদের অসুবিধা হতে পারে। সমস্যাটিকে মাথায় রেখেই সাধারণ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলারদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত প্রতীকগুলো বরাদ্ধ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংসদে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে, তা পাস না হওয়ার আগে ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন আইন প্রনেতারা খুবই অভিজ্ঞ। একবার চোখ বুলিয়েই তারা সংশোধনী অনুমোদন দিবেন এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা পাস হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, সংশোধনী বিল পাস না হলেও সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বিদ্যমান/আগের আইনেই ডিসেম্বরে ২৪২টি পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার দাবি করেন, পুরানো আইনে নির্বাচন করতে সাংবিধানিক কোন বাধা নেই। তাই ডিসেম্বরের মধ্যেই মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জাবেদ আলী জানান, প্রথম পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পৌরসভাগুলোর মেয়াদ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব পৌরসভায় নির্বাচন করা যাবে। এর পরও বেশ কিছু সমস্যাকে পাস কাটানোর জন্যই কমিশনকে ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচন করতে হচ্ছে।

ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করার কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত সকল ভোটারেরই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। একই ভাবে ৪০ দিন হাতে রেখে সিডিউল ঘোষণার বাধ্যবাধকতা রযেছে। তাই, ২ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের পর মাত্র ৪ দিনে এসব নতুন ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করে ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। অন্যদিকে মাস জুড়ে শিক্ষাঙ্গণে ভর্তির কারণে জানুয়ারি মাসে এবং এসএসসি, কারিগরি ও দাখিল পরীক্ষা থাকায় ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠান করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

এ ছাড়াও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নুরুল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল বাতেন।

Print Friendly, PDF & Email