সিলেটে খাবার পানির জন্য হাহাকার, মিটছে না অর্ধেক চাহিদাও!

0
221

ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেট নগরীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য হাহাকার চলছে। নগরীর মোট চাহিদার অর্ধেক পানিও সরবরাহ করতে পারছে না সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। রমজানের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়ে যাওয়ায় সিটি করপোরেশন পরিচালিত উৎপাদক নলকূপ ও পাম্পগুলোও ঠিকমতো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নগরজুড়ে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম রোজা থেকে নগরীর রায়নগর, দর্জিবন্দ, দক্ষিণ শাহীঈদগাহ, ঝর্ণারপাড়, রাজবাড়ি, সোনারপাড়া, শ্রাবণীপাড়া, মিরাপাড়াসহ নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার পাম্প বিকল হয়ে পড়ায় পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রমজানে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন এলাকার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ট্রান্সফরমার মেরামত করতে ৮-১০ ঘন্টা থেকে দু’দিন পর্যন্ত সময় নিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে ওইসব এলাকার পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করতে পারছে না সিসিক।
সিসিক সূত্র জানায়- সিলেট নগরীতে প্রতিদিন খাবার পানির চাহিদা রয়েছে ৮ কোটি লিটার। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সিটি করপোরেশনের একটি শোধনাগার ও ৩০টি পাম্প দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি লিটার পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। এছাড়া কিছু কিছু বাসা-বাড়িতে ব্যক্তি উদ্যোগে গভীর নলকূপ বসিয়ে পানির চাহিদা পূরণ করা হয়। এরপরও প্রতিদিন চাহিদার অর্ধেকের চেয়ে বেশি পানির ঘাটতি থাকে। সূত্র আরও জানায়- রমজানে তারাবীর নামাজের সময় সিলেট নগরীর প্রায় সকল মসজিদে এসি চালানো হয়। এতে লোড নিতে না পেরে বিভিন্ন এলাকার সঞ্চালন লাইন ও ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে পানি উত্তোলনে। বিদ্যুৎ না থাকলে বন্ধ রাখতে হয় সিসিক’র পাম্পগুলো। এতে পানি সংকট আরও প্রকট হয়ে দাঁড়ায়।
সিসিক’র প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নূর আজিজুর রহমান  জানান, এমনিতেই নগরীর চাহিদার অর্ধেক পানিও সরবরাহ সম্ভব হয় না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় পানির সংকট আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও পাম্প বিকল হয়ে পড়ছে। এগুলো মেরামত করে পুনরায় পানি সরবরাহ শুরু করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email