সিলেটে মহানগর জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  

0
442

সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করে অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় আনার জন্যই ২৮ অক্টোবর ঢাকা সহ সারাদেশে একই সময়ে পরিকল্পিতভাবে নারকীয় হত্যাকান্ড সংঘটিত করা হয়েছিল। সেদিন লগি-বৈঠা দিয়ে নিরীহ নেতাকর্মীদের শুধু পিটিয়ে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি খুনীরা লাশের উপর নেচে নৃত্য করেছিল। এমন নৃশংস ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জাতি হতবম্ব হয়ে গিয়েছিল। এরই ধারবাহিকতায় ফখর-মঈনের অবৈধ সরকারের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায়ই বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে। ২৮শে অক্টোবরের লগি-বৈঠার তান্ডব ও নৃশংসতা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই অপরাধের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই ইনশাআল্লাহ। অবৈধ ক্ষমতাসীন সরকার ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞের বিচারের বদলে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার করেছে। বাকশালী সরকার গণতন্ত্র হত্যা করে জাতির ঘাড়ে একদলীয় স্বৈরশাসন চাপিয়ে দিয়ে দেশকে রাজনীতি শূন্য করার ষড়যন্ত্র করছে। ২৮ অক্টোবরের নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দাবি আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার নারকীয় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খুনিদের বিচারের দাবিতে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।

বুধবার জামায়াত কেন্দ্রঘোষিত দেশব্যাপী শান্তিপুর্ন বিক্ষোভ কর্মসুচীর অংশ হিসেবে ২৮শে অক্টোবরের লগি-বৈঠার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে জড়িত খুনীদের বিচার ও দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্থির দাবীতে সিলেট মহানগর জামায়াত নগরীর আম্বরখানা এলাকায় শান্তিপুর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, সহকারী সেক্রেটারী মো: শাহাজাহান আলী, জামায়াত নেতা মুফতী আলী হায়দার, মু. আজিজুল ইসলাম, হাফিজ মশাহিদ আহমদ, চৌধুরী আব্দুল বাছিত নাহির ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সিলেট মহানগর সেক্রেটারী মাসুক আহমদ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর সারাদেশের ন্যায় সিলেটের রাজপথেও তৎকালিন সিলেট মহানগর ছাত্র শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম বাবুল ও মহানগর শিবির নেতা মঞ্জুর রহমানের উপর লগি-বৈঠার নৃশংস তান্ডব চালানো হয়েছিল। এর সাথে জড়িতদের বিচার না করে সরকার মামলা প্রত্যাহার করে হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন করেছে। অবিলম্বে ২৮শে অক্টোবরের নৃশংসতায় জড়িতদের বিচার ও দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্থি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে খুনীদের বিচার বাংলার মাটিতে সম্পন্ন হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। ইসলামী আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করতে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে অবিচারের চালিয়ে নিরপরাধ শীর্ষ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিন ও ২৮শে অক্টোবরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন। অন্যথায় জাতি কাউকে ক্ষমা করবেনা।

Print Friendly, PDF & Email