সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ভাস্কর্য সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

0
1285

ঢাকা: সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ‘ন্যায়বিচারের প্রতীক গ্রিক ভাস্কর্য জাস্টিসিয়া’ অন্য জায়গায় পুনঃস্থাপন কিংবা ঈদগাহ মাঠ থেকে নামাজরত অবস্থায় যেন তা চোখে না পড়ে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে একান্তে কথা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত বিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতিকে বলা হয়েছে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক অনির্ধারিত আলোচনায় এমন মত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১০ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের চেয়ারম্যান আহমেদ শাহ শফীর নেতৃত্বে কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ আলেম ওলামারা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। এই বৈঠকে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স ইন ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যারাবিকের সমমান দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্য অপসারণে দাবি জানিয়ে আসা আলেম ওলামাদেরকে এই বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন।

গত শনিবার বিচারপতিদের বাসভবন উদ্বোধন উপলক্ষে কাকরাইল গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ছিলেন প্রধান বিচারপতিও। সেখানে এই অনুষ্ঠানের পর তার সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও ধরনের আলোচনা ছাড়াই হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টের সামনে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এটি আসলেই দর্শনীয় কোনও ভাস্কর্য হয়নি। আর এটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে জাতীয় ঈদগাহ থেকেও চোখে পড়ে। গ্রিক দেবী কি শাড়ি পরতো নাকি- এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভাস্কর্যটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়া অবস্থায় চোখে পড়ে। এটি আসলেই দর্শনীয় কোনো ভাস্কর্য নয়।’

তিনি বলেন, আমি গত শনিবার জাজেস কমপ্লেক্স উদ্বোধনের পর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে একান্তে কথা বলেছি। তাকে জানিয়েছি, ভাস্কর্যটি দর্শনীয় হয়নি। এটি নিয়ে বিতর্কও আছে। হয় এটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে ফেলুন অথবা এমনভাবে রিপ্লেস (স্থানান্তর) করুন বা ঢেকে দিন যাতে ভাস্কর্যটি জাতীয় ঈদগাহ থেকে দেখা না যায়। ‘প্রধান বিচারপতি বিষয়টি দেখবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন’- যোগ করেন শেখ হাসিনা।