জামায়াত নেতা আজহারের ফাঁসির আদেশ

0
202

ATM Azhar
ঢাকা: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া শুরু হয়। ১৫৮ পৃষ্ঠার রায়ে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। রায় ঘোষণার সময় আজহারকে কাঠগড়ায় অবিচল থাকতে দেখা গেছে। এর আগে রায় ঘোষণার জন্য সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিচারকরা ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে খাস কামরায় যান। পরে ১১.১০ মিনিটে রায় পড়া শুরু করা হয়। রায় পড়ার শুরুতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম সূচনা বক্তব্য দেন।
সূচনা বক্তব্যের পর রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক। দ্বিতীয় অংশ পড়েন বিচারক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং শেষ অংশ পড়েন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
এর আগে সকাল নয়টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয় এটিএম আজহারকে। পরে তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়।
এসময় তার পরনে ছিল সাদা রঙের পাঞ্জাবি-পাজামা ও ঘিয়া রঙের সোয়েটার। সকাল পৌনে নয়টার দিকে একটি প্রিজনভ্যানে করে আজহারকে নিয়ে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে রওনা হয় প্রিজন ভ্যানটি।
রায়কে ঘিরে ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তল্লাশি করে সবাইকে আদালতের ভেতরে ঢোকানো হয়। সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে ১২২৫ ব্যক্তিকে গণহত্যা, ৪ জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শত শত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৯ ধরনের ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে।

Print Friendly, PDF & Email