Home জাতীয় কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বই চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী

কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বই চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী

333
0

ঢাকা: খসড়া শিক্ষা আইনে ‘কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বইকে’ বৈধতা দেওয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বই চলবে না। এটা শিক্ষা আইনেও অন্তর্ভুক্ত হবে। রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শনিবার ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল মাদ্রাসা টেক্সটবুক’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।
খসড়া শিক্ষা আইনে ‘ছায়া শিক্ষা (শ্যাডো এডুকেশন) প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম’ এর নামে কোচিং-প্রাইভেট বহাল রাখা ও ‘সহায়ক পুস্তক বা ডিজিটাল শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রকাশ’ এর নামে নোট ও গাইড বই প্রকাশের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাবিদরা প্রতিবাদও জানাচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা আইন করতে বারবার বিভিন্নভাবে মতামত নেওয়া হয়েছে। বারবার এতে মত দেন আমাদের শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী, জনগণ। আমরা তা গ্রহণ করি। এগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করি কথাবার্তা বলি, আবার নতুন সমস্যা আসে। এমন করতে করতে এটা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসছে। আমরা এটা খুব শিঘ্রই ক্যাবিনেটে উত্থাপন করব। ‘এরমধ্যে (আইনের খসড়া) নানা কথা আসছে। আপনারাই কথা দিয়েছেন, না হয় আমরা পাইলাম কই।’
সংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নাহিদ বলেন, যে কোন একটা কথা যেটা্ দিয়ে স্টোরি তৈরি করা যাবে ওইটারেই পিক আউট করলেন। এমন একটা অবস্থা যেন আমরা মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলেছি।
তিনি বলেন, এই দেশে এই গভর্নমেন্ট আসার আগে, আমার আগে কে বলেছে শিক্ষা আইন করতে হবে? আমরাইতো উদ্যোগী, আমি তো ২০১১ সালেই আইন করে ফেলতাম, আমরা তো করিনি। আপনারাদের মত নেওয়ার জন্য। এটা নিয়ে এত আলোচনা!
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি পরিস্কার বলে দিচ্ছি- এই দেশে কোচিং বাণিজ্য চলবে না। এই দেশে গাইড বই, নোট বই চলবে না। এই দেশে আমাদের ছেলে-মেয়েদের প্রতারণা করে অর্থ লাভ করার জন্য কেউ কোনো ধরণের পদ্ধতি অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারবে না। এইটাই আইনে আসবে।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এটাও মনে রাখতে হবে, ক্লাসের মধ্যে সব ছাত্র সমানভাবে বুঝে উঠতে পারে না। যারা পিছিয়ে পড়ে তাদের কি করার, তাদেরকেও শিখাইতে হবে। আগে স্যারেরা বেশি কমিটেড ছিলেন, ক্লাসের পর আরও আধঘণ্টা বসিয়ে বুঝিয়েছেন। এখন আমাদের কোটি কোটি ছাত্র। এ বিষয়ে আমরা বলেছি কি করে তাকে সাহায্য দেওয়া যায়?
এটাকে কোন ধরণের কোচিং বাণিজ্য হিসেবে বিবেচনা নয়। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান সংশ্লিষ্ট টিচার এবং অভিভাবকরা বসে ঠিক করবে কীভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ক্লাস করানো যায়। আমার সেটা নিয়ে একটা পথ বের করার চিন্তা করছি।
মন্ত্রী বলেন, এটা কি অন্যায় করছি? এখন, এটা ধরে নানা রূপ দিয়ে মনে হচ্ছে কত বড় অপরাপধ করে বসে আছি। বলেন আপনারা কি করতে হবে?
তিনি বলেন, সাইফুরস যখন বলল ডাকাতি শিখবার জন্য আমার কাছে ইংরেজি শিখতে আস। আমি এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করলাম, আমি অনেককে আহ্বান জানালাম আপনারা প্রতিবাদ করেন। তখন কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখলাম না। আমাদের ড্রাফটের (শিক্ষা আইনের খসড়া) মধ্য থেকে একটা শব্দ বাছাই করে নিয়ে সেটা নিয়ে এত আলোচনা, এতে লেখালেখি, এত বিবৃতি বের হল কিন্তু সাইফুরসের বিরুদ্ধে কেউ বলল না। বলাইতে পারলাম না।
শিক্ষা আইন প্রণয়নে সরকার সংশ্লিষ্টদের মতের বাইরে যাবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভুল আমরা করব, যখন ধরাইয়া দিবেন ভুল আমরা শোধরাইয়া নেব। কিন্তু আমরা এখনও তো ক্যাবিনেটে উত্থাপনই (শিক্ষা আইনের খসড়া) করলাম না। আমাদের গলায় একটা মার্কা লাগাইয়া দিলেন, আমরা কোচিং বাণিজ্য বৈধ করে দিচ্ছি।

Previous articleজাতীয় পার্টি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চায়: এরশাদ
Next articleস্বাধীনতার স্বাদ আহ্লাদ এবং স্বপ্নবাসরের ইতিকথা!