জনগণ এবার রুখে দাঁড়াবে: ড. কামাল হোসেন

0
221

বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না। এমন প্রস্তাব আমাকে কেউ দেয়নি। আমি নিজ থেকে এমন কথা কাউকে বলিনি। এ নিয়ে ন্যূনতম আগ্রহও প্রকাশ করিনি। আমি এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার করতে চাই।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে বিদায় দিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আবারও প্রহসনের নির্বাচন করতে চাইলে জনগণ তা প্রতিহত করতে রুখে দাঁড়াবে। কখন কীভাবে রুখে দাঁড়াবে তা এখনই বলা সম্ভব না। কখন জনগণের ঐক্য হবে, তা-ও আগাম বা অনুমাননির্ভর কিছু বলা সম্ভব নয়। সময়ই সব নির্ধারণ করে দেবে। ইতিহাস বলে বাঙালি যখনই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।

কামাল হোসেনআরও বলেন, আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়া গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে গিয়ে তারা বলেছিল- ‘আগে উন্নয়ন, আগে অর্থনৈতিক মুক্তি, পরে গণতন্ত্র।’ এ তত্ত্ব দিয়ে বাঙালিকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে এর বিপরীতে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- আগে স্বাধীনতা, আগে ভোটের অধিকার, আগে গণতন্ত্র। এগুলো হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। উন্নয়নও হবে। সম্পদের সুষম বণ্টন হবে। বৈষম্য থাকবে না, ন্যায়ভিত্তিক সমাজও প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই স্বাধীন বাংলাদেশে এখন আমরা কার ফর্মুলা অনুসরণ করব? আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়ার ফর্মুলা? নাকি বঙ্গবন্ধুর ফর্মুলা? বাস্তবতা হচ্ছে- আইয়ুব-ইয়াহিয়ার ফর্মুলা দিয়ে সরকারের অনেকে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করছেন। এ ফর্মুলা দিয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মালিকদের দাবিয়ে রাখা হবে, তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে, তাদের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হবে- এটা বেশিদিন চলতে পারে না। আইয়ুব-ইয়াহিয়া পারেনি, এ সরকারও পারবে না।

ড. কামাল হোসেন বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার খর্ব করে যারা ‘আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র’ ফর্মুলা দিচ্ছেন, আসলে তারা এর মধ্য দিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ার ফন্দি আঁটছেন। উন্নয়নের ফর্মুলা দিয়েই ব্যাংক লুট করা হচ্ছে। কারা ব্যাংক লুট করছে মানুষ তা জানে। একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধরাই রয়ে গেল। আর্থিক খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। শেয়ারবাজারের চিত্র সবার জানা। বিনিয়োগ নেই। কর্মসংস্থান নেই। বিদেশে টাকা পাচার বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে মাত্র কয়েক বছরে এ দেশের কেউ কেউ এখন বিদেশেও অন্যতম সম্পদশালীর মধ্যে একজন। মোদ্দাকথা, উন্নয়নের ফর্মুলায় কিছু লোকের ভাগ্য খুলেছে। সাধারণ মানুষ পথে বসেছে। এই সুবিধাবাদীরা সরকার ও দলের একটু খারাপ অবস্থা দেখলে বিদেশে পাড়ি দেবে। দেশে আজ গণতন্ত্র থাকলে, জবাবদিহতা থাকত। লুটপাটকারীরা ভয় পেত। মানুষের কাছে তাদের জবাবদিহিতা করতে হতো। যা এখন তাদের করতে হয় না।

তিনি বলেন, আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করে ব্যক্তি, দল ও পরিবারতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনসহ সবকিছুকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এ অবস্থার অবসান চাই। দেশের মানুষও তাই চায়।

সোমবার যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচন, বিএনপির সঙ্গে বৃহত্তর জোট গঠন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব, দুর্নীতি, লুটপাট, বিচার বিভাগসহ নানা ইস্যুতে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও খণ্ডন করেন এ সময় ড. কামাল হোসেন। বলেন দেশ নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা। কেমন সরকার চান, কেমন দেশ চান, কেমন নির্বাচন চান, কেমন হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ- এসব বিষয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন প্রবীণ এ আইনজীবী।

Print Friendly, PDF & Email