বিজিবি-বিএসএফের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সীমান্তে হত্যা কমেছে: প্রধানমন্ত্রী

0
139
ফাইল ছবি

ঢাকা: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সীমান্তে হত্যা কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সীমান্তে নীরিহ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আপনাদের (বিজিবি) প্রচেষ্টায় বিএসএফের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ফলে সীমান্তে নিহতের ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবির সদর দফতরে বিজিবি দিবস-২০১৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদ প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের জ্বালাও-পোড়াও, পেট্রোল বোমা হামলাকারীদের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতা প্রতিহত করতে আপনারা যে দক্ষতা দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সীমান্তে আপনাদের কঠোর অবস্থানের ফলে চোরাচালন, মাদকপাচার, নারী ও শিশু পাচার এবং সীমান্ত অপরাধ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে ৪৭৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় নতুন ৪টি ব্যাটালিয়ান ও ৫৫টি বিওপি নির্মাণের মাধ্যমে ৩৭০ কিলোমিটার সীমানা ইতোমধ্যে নজরদারিতে আনা হয়েছে। বিজিবিতে নারী নিয়োগের মাধ্যমে আমরা নারী ক্ষমতায়নে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় যে ঘটনা ঘটেছিল সেটা আমাদের জন্য একটি কালো অধ্যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আড়াই মাসের মাথায় এই বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছিলে। বিডিআর বিদ্রোহের চক্রান্তকারীদের সব অপতৎপরতা আমরা ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলাম। এ বাহিনীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলাম তা আন্তর্জাতিকভাবে আজ প্রশংসিত।
বিজিবি সদস্যেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সবার সহযোগিতায় জাতি সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল বলেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজিবি সদস্য হিসেবে আপনাদের বিশ্বস্ততা পরীক্ষিত। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা বিজিবি আজকে একটি গতিশীল ও আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কঠোর পরিশ্রমে এই বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বিজিবি সদস্যদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিজিবিকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আয়োজিত প্যারেডের সালাম গ্রহণ করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email