সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের দুই ২৩ দলীয় জোটে প্রার্থীদের জটলা

0
223

নিজস্ব প্রতিনিধি: সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনের মধ্যে হাওর অধ্যুশিত সুনামগঞ্জের অন্যতম জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ৩ আসন। নানা কারনে নির্বাচনী এই আসনটি আলোচিত।

প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্জ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ, প্রয়াত স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ফারুক রশীদ চৌধুরী এই নির্বাচনী এলাকারই ছিলেন। বর্তমানেও হাওর বেষ্টিত প্রবাসী অধ্যুশিত এই আসনের সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্জ্ব এম এ মান্নান।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে কেন্দ্রীয় নেতা এ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে অল্প ভোটের ব্যবধানে নৌকার হেভিওয়েট প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের কাছে পরাজিত হন।

স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলেই ছিল সুনামগঞ্জ ৩ আসন। ২০০৫ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সে সময়ের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান পানপাতা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে করলেও চারদলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী শাহীনুর পাশা চৌধুরী নির্বাচিত হন।

২০০৫ সালের উপনির্বাচনে আসনটি প্রথম বারের মত ধানের শীষের প্রার্থীর দখলে যায়। ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী এম এ মান্নান নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী শাহীনূর পাশা চৌধুরীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে না আসায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নানের সাথে প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ তনয় আজিজুস সামাদ ডন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে এম এ মান্নান এমপি কে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়ীত্ব দেন। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী কোন জোটেই নির্ধারন হয়নি। বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও আওয়ামী লীগ থেকে দুই প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

আওয়ামী লীগের দূর্গ ধরে রাখতে শেষ পর্যন্ত কে হবেন নৌকার মাঝি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান না সামাদ পুত্র আজিজুস সামাদ ডন এ নিয়ে এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।

২৩ দলীয় জোট প্রার্থীদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী (ক্বাসেমী), এ্যাডভোকেট সৈয়দ সামসলু ইসলাম (ওয়াক্কাস), বিএনপির কর্ণেল আলী আহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির অর্থ সম্পাদক এম এ ছাত্তার, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খসরু, জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও জিয়া সমাজ কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক সুমন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

 

এছাড়াও ২৩ দলীয় জোটের আরেক প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এম আর খালেদ তুষার। আসনটিতে জমিয়তের একাংশের প্রার্থী সাবেক এমপি শাহিনুর পাশা চৌধুরী মনোনয়নের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও জমিয়তের আরেক অংশের প্রার্থী এডভোকেট সামসুল ইসলাম প্রার্থী হওয়ায় সুবিধা নিতে পাড়ে বিএনপি অথবা জাতীয় ঐক্যের অন্য কোন প্রার্থী।

 

 

মনোনয়ন দৌড়ে উভয় জোটের সমর্থকরা তাদের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাক্তিগত প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Print Friendly, PDF & Email