নববধূ ধর্ষণ: ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেফতার

0
462

বরিশাল: চাঁদার টাকা না পেয়ে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করার ঘটনায় আটক জেলার বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লাকে গ্রেফতার করে আদালতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাকে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে নেওয়া হয়। আদালতে ধর্ষণের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সুমন মোল্লা।

বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে অটো চালাতে গিয়ে পরিচয় হয় সেলিম মিয়ার সাথে ওই বধূর। আট থেকে নয় মাস আগে দুজনার বিয়ে হয়। দিন কয়েক আগে সেলিম তার স্ত্রীকে নিয়ে নানা বাড়ি সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের বেতাল গ্রামে বেড়াতে আসেন। ওসময় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা দলবল নিয়ে চাঁদা দাবি করে। শনিবার সন্ধ্যায় সেলিম তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হলে ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা ও তার সহযোগিরা দু’জনকে ধরে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখতে চায়। এই অজুহাতে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ গিয়ে পরদিন রবিবার বেলা ১১টার সময় তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এদিন বিকেলে ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে মামলা করেন। পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে প্রধান আসামিকে বরিশাল নগরী থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।

উজিরপুর থানার সার্কেল এসপি মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, মামলা দায়েরের ছয় ঘণ্টার মধ্যে আসামি ধরতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

গৃহবধূ ধর্ষণের মামলা দায়ের হওয়ার পর বিষয়টি জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের নজরে এলে তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন। কারো ব্যক্তিগত দায় দল নেবে না বলে সুমন মোল্লাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান ছাত্রলীগ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আদালতের বিচারক মো. শিহাবুল ইসলামের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে সুমন মোল্লা। এরপর তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এসময় ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়। আর গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।