বিচারক অপসারণে আইনি শূন্যতা বিরাজ করছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

0
824
ফাইল ছবি

ঢাকা: উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণে আইনি শূন্যতা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সোমবার নিজ কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক বিফ্রিংয়ে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিয়ে পাস করা ষোড়শ সংশোধনী হাইকোর্টে বাতিল হওয়ার মধ্য দিয়ে বিচারক অপসারণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক শূন্যতা বিরাজ করছে বলে আমি মনে করি। কারণ এখন তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা মনে করেন ষোড়শ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগের নির্দেশনাই বাস্তবায়িত হয়েছিল। তিনি বলেন, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের সময় বিচারপতি অপসারণের আইনটা রেখে দেয়া হয়েছিল এটা জনকল্যাণমূলক একথা বলে। যখন আমরা রিভিউ করলাম, রিভিউতে আদালত বলল সামরিক শাসনের যতো আইন ও সংশোধনী আছে সব বাতিল হবে। সেই রিভিউর রায়ের আলোকেই আমি মনে করি ষোড়শ সংশোধনীর দ্বারা বিচারপতির অপসারণের ক্ষমতা মূল সংবিধানে যা ছিল সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

এই রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে আপিল করার ঘোষণাও দেন মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, হাইকোর্ট এটাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে। দুজন বিচারপতি বলেছে এটা অবৈধ, একজন বলেছেন বৈধ। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই আপিল বিভাগে আপিল করব। সই মহুড়ির নকল পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আমরা আছি, এটা পেয়ে গেলেই আমরা আপিল করব। এক মাসের মধ্যে আমরা করতে পারব বলে মনে হয়।

আপিলে রাষ্ট্রপক্ষ ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে বলেও উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্টের হাতে। আমাদের পঞ্চম সংশোধনীতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে দেয়া হলো। এ নিয়ে আইয়ুব খান যেটা করেছিল এই বিধানটাও অনেকটা তাই। আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের যে ত্যাগ, সংগ্রাম ও চেতা সবেই বৃথা হয়ে যায়। আমরা হাইকোর্টের রায় যাতে পরিবর্তন হয়, সেটা করার চেষ্টা করব।

উল্লেখ্য, উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন হয়। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর ওই সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। রুলের শুনানি শেষে চলতি বছর ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকোর্টের বৃহত্তরও বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায়ে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।