সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে: খালেদা জিয়া

0
445

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অবস্থা মোটেও ভালো নেই মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, যারা ক্ষমতায় বসে আছে তারা জোর করে বসে আছেন। পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা ব্যবহার করে ক্ষমতায় বসে আছেন। মানুষের যে দুরবস্থা সেদিকে নজর নেই। দেশের মানুষ ভালো খেতে পারে পারে না।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আজকে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। মওদুদ কি আচরণই না করছে, অথচ তাদের নেতাকর্মীরা তার বাড়ি দখল করছে, কিন্তু যাদের বাড়ি তাদেরকে ফিরেয়ে দিচ্ছে না।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপির লোক, সে নাকী বাড়ি দখল করেছে। এই বাড়িতে ব্যারিস্টার মওদুদ ৩০ বছর ধরে আছেন, আজকে থেকে তাকে রাস্তায় বের করে দিয়েছে। আমার বাড়িতে আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই বাসায়, আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এক কাপড়ে। এদের যারা বাড়ি-ঘর দখল করেছে, জনগণ তো এদেরকে দেখবেন, জনগণ সব হিসাব রাখছে, এদেরকেও ওই এক কাপড়ে বাড়ি-ঘর থেকে সবাইকে বিদায় করে দেবে। এরা মনে করে যে, এরা খুব ভালোভাবে থাকবে। জনগণ এটা হতে দেবে না। আল্লাহ তায়ালার একটা বিচার আছে।
আজ বুধবার বিকেলে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির পুষ্পগুচ্ছ হল রুমে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দেশে বিচার নেই- উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আজকে আমরা এতো অসহায়- এই যে এতো অত্যাচার-জুলুম হচ্ছে, তার জন্য যে বিচার চাইব, বিচারের জন্য কোর্টে গেলেন, বিচার নাই। কারণ সেখানেও আওয়ামী লীগের ধাবা, তারা থাবা দিয়ে রেখেছে। নিম্ন আদালত পুরো তাদের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে তারা যাকে বলবে, সে নিরাপরাধ হলেও তাকে সাজা দেবে, যে অপরাধী , তাকে ছেড়ে দেবে।
আপন জুয়েলার্সের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা দেখতে পারছেন। যে আপন জুয়েলার্স নিয়ে অনেক ঘটনা আপনারা দেখতে পারছেন। কারণ টাকা-পয়সা লেনদেন হলেই, সোনা-দানা লেনদেন হলেই সব কিছু তদন্ত চেপে যায়। এখন বুঝতে বাকী থাকে না, এই স্বর্ণ পাচারের সাথে আওয়ামী লীগের বড় বড় লোকজন জড়িত। যার জন্য এতো স্বর্ণ অবাধে দেশে আসতে পেরেছে এবং অল্প কিছু ধরিয়ে দেয়া হয়েছে লোক দেখানোর জন্য। এটাই হচ্ছে বাস্তব অবস্থা।
তিনি বলেন, দেশের বেশিভাগ মানুষ বেকার তারপরও এরা বড় বড় কথা বলে যে কাজ করে যাচ্ছে, মিথ্যা কথা বলে টিকে আছে। বাজেটে লাভবান হবে শুধু তারা, যারা ক্ষমতায় আছে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ মানুষ।
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের দলের লোকের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রশাসনে চলছে লুটপাট। দখল, জবর দখল করে ক্ষমতায় আছে।
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, মানুষ চায় পরির্বতন। চায় আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচন, যে নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে নয়। হাসিনার অধীনে সকলে নির্বাচনে অংশ নিবে না। কমিশন চাইলে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে না। সেজন্যই প্রয়োজন হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
ইসির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিনাভোটে নির্বাচিত সরকারের চাটুকারিতা না করে, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন করে তাদের আশা আঙ্খাকার প্রতিফল ঘটান।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, ড. মামুন আহমেদ, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সহস্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি, পেশাজীবীদের মধ্যে প্রকৌশলী আ ন হ আক্তার হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতা জাকির হোসেন, সাংবাদিক এম এম আজিজ, মাহফুজ উল্লাহ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মওদুদের বাসার সামনে খালেদা জিয়া
এদিকে ইফতার অনুষ্ঠানের পর খালেদা জিয়া গুলশানে মওদুদ আহমদের বাসার সামনে যান। সে সময় মওদুদ সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি তার সাথে কথা বলেন। কিভাবে বাসার মালামাল বিনষ্ট করে সরকার সরাচ্ছে, তা মওদুদের কাছ থেকে খালেদা জিয়া শোনেন। বিমর্ষ অবস্থায় মওদুদ আহমদ কিভাবে সরকার কোনো নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে তা বিশদভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বলেন।
এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।