সামনে ভয়ঙ্কর বিপদ, দেশ রক্ষায় ইসলামী শক্তির ঐক্য জরুরি: এরশাদ

0
193

নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন অরাজকতা চলছে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস , লুটপাট আর ধর্ষণের মহৎসব চলছে। দেশকে এই অরাজকতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইসলামী শক্তির ঐক্য জরুরি। মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এরশাদের বলেন, আমরা যদি মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে থাকি, তাহলে সাগর পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বিদেশ যাচ্ছে কেন?

আজ জাপার বনানীর কার্যালয়ে জাতীয় ওলামা পার্টি আয়োজিত ‘ইসলাম, মুসলিম বিশ্ব ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতীয় ওলামা পার্টি ঢাকা মহানগরের সভাপতি এরশাদ উল্লাহ আকমলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি.এম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীল শুভরায়, এস এম ফয়সল চিশতী, ওলামা পার্টির সভাপতি মাওলানা ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আল জুবায়ের, জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফকরুল আহসান শাহজাদা, বাংলাদেশ মসজিদ সমাজের সভাপতি মাওলানা মোঃ নওয়াব আলী ভূইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আখতার, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, সোমনাথ দে, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, আলমগীর সিকদার লোটন, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান, কেন্দ্রীয় নেতা সুমন আশরাফ, মাখন সরকার, ওলামা পার্টি এইচ কে এম নুরুল্লাহ, মাওলানা নাসরুল্লাহ আল মানসুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এরশাদ বলেন, ইসলাম শান্তি ও সাম্যের ধর্ম। কিন্তু মুসলমান বললেই জঙ্গী ও সন্ত্রাসী। জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ইসলামকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা হচ্ছে। সারা বিশ্বে জঙ্গীবাদ কে সৃষ্টি করেছে? আপনারা করেছেন। আপনারা কেনো ইরাক ধ্বংস করলেন? কেনো গাদ্দাফিকে হত্যা করলেন? কি দোষ ছিলো তাদের! নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছেন। হাজার হাজার সৈন্য আফগানিস্থানে যুদ্ধের জন্য পাঠাচ্ছেন। বার্সেলোনায় হামলা হলো, সারা বিশ্বে হা-হুতাশ শুরু হয়েছে। প্রতিদিনইতো ফিলিস্থানে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তার জন্যতো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিনা, মুসলমান মরলে কিছু যায় আসেনা। মুসলমানরা কি মানুষ না!

তিনি বলেন, আজ আমাদের সন্ত্রাসী বলা হয়, জঙ্গি বলা হয়। কী কারণে জঙ্গি হলাম আমরা? আমরা তো আগে জঙ্গি ছিলাম না, আমার সময়ে তো কোনো সন্ত্রাসী-জঙ্গি ছিল না, তবে আজ কেন বলা হচ্ছে? কারণ দেশের ইসলামী দলগুলোর মধ্যে একতা নেই। আমাদের একত্রিত হতে হবে। সামনে বিরাট পরীক্ষা, ভয়ঙ্কর বিপদ। যদি বাঁচতে হয় সবাইকে এক হতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই- ইসলাম, কৃষ্টি এবং দেশ রক্ষা করা।

বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্যাভাব রয়েছে অভিযোগ করে খাদ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, ৫৬ টাকা চাল হয়েছে তো কী হয়েছে? মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৬০০ ডলার। তাই চালের দাম বাড়লেও সমস্যা হচ্ছে না। থাকেন তো ঢাকায়, ঢাকার বাইরে গিয়েছেন কখনো? দেখেছেন মানুষ কি অবস্থায় আছে? গ্রাম ঘুরে আসেন, ধারণা পাল্টে যাবে। ৮৮’র বন্যায় কেউ না খেয়ে মারা যায়নি, আর এখন ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। কিছুদিন আগে তো পচা গমও এনেছিলেন আপনি। এখনো মন্ত্রী থাকেন কি করে?

এরশাদ বলেন, সরকার যখন মধ্যম আয়ের কথা বলেন, মানুষ তখন মুখ টিপে টিপে হাসে। আপনারাতো গ্রাম-গঞ্জে যান না, গ্রামে যান দেখবেন মানুষের কি অবস্থা। মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে থাকলে, মানুষ জীবনে ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিতো না। তাদের কোন উপায় নেই তাই বাধ্য হয়ে বিদেশ যাচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচনে দেশের সব আলেম-ওলামাদের নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় পার্টির জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, বাংলাদেশে ইসলামের উন্নতিতে জাতীয় পার্টির শাসনামলে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলাম। আমি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করেছিলাম। মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করেছিলাম। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, আল্লাহর বিচারের পরেই, বিচারকদের বিচার। আমি তাদের সেভাবেই মর্যাদা দিয়েছিলাম। আমি বিচারালয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করিনি। অষ্টম সংশোধনী বাতিল করে ছিলো যে বিচারক, তাকে প্রধান বিচারপতি করেছিলাম।

এরশাদ বলেন, স্কুলের শ্রেণি কক্ষে স্বামীর সামনে শিক্ষিকাকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। এর চেয়ে বর্বরতা আর কি হতে পারে। এই অরাজকতা ও বর্বরতার হাত থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য দেশের সকল ইসলামী শক্তিকে একটি প্লাটফর্মে আসতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি তাহলে দেশে আবারো শান্তি ফিরে আসবে। অরাজকতা দূর হবে। জাতীয় পার্টি হচ্ছে নির্ভরযোগ্য ইসলামী ফ্লাটফর্ম। তিনি জাতীয় পার্টির সঙ্গে সকল ইসলামী শক্তিকে হাত মেলানোর আহবান জানান।

Print Friendly, PDF & Email