কেউ ঘুমাবে কেউ ঝুঁকি নেবে তা হবে না- মতবিনিময়ে ইশরাক

0
491

ঢাকা : ঝুঁকি না নিলে কোন কাজে সাফল্য আসে না বলে মন্তব্য করেছেন গত সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, কেউ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করবেন, আর কেউ ঘুমিয়ে থাকবেন সেটা হতে পারে না। এভাবে কোন সাফল্য আসে না। সাফল্য ছিনিয়ে আনতে হলে সকলকে ঝুঁকি নিতে হবে, কাজ করতে হবে। রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সাথে সিটি নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা রূদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরে সকলেই উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের দিন সকাল বেলা ভোট দিয়ে আমি নিজেও কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি আকাশ-পাতাল তফাত লক্ষ্য করেছি। কিছু কিছু এলাকায় আমি দেখেছি, সেখানকার কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজের জান-জীবন ঝুঁকি রেখে চেষ্টা করেছে নির্বাচনের বিজয়কে ছিনিয়ে আনার জন্য। আবার কিছু কিছু জায়গায় আমি গিয়ে দেখেছি, সেখানে কাউন্সিলর প্রার্থীও নাই, আমাদের স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী যারা চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাদেরকে সংগঠিতই করা হয় নাই। নির্বাচনের দিন কার কী ভূমিকা ছিল, নাম উল্লেখ না করে স্থানীয় নেতাদের তা জানাতে আহ্বান জানান ইশরাক।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আমাদের মধ্যে যে দুর্বলতাগুলো ছিল, সেগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে সামনের দিনগুলোতে আমরা আমাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান করতে পারি। নির্বাচনের দিন কার কী ভূমিকা ছিল, সেটা আপনারা কারও নাম উল্লেখ না করে বলুন।
ইশরাক বলেন, আমরা যদি সুসংগঠিত হয়ে সামনের দিনগুলোতে আন্দোলনকে বেগবান না করতে পারি, তাহলে কিন্তু আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর মুক্তিও খুব শিগগিরই সম্ভব হবে না, দেশে গণতন্ত্রও ফেরত আসবে না।
দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, নির্বাচনে ব্যর্থতার দায় মহানগরের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ এই নির্বাচনের শুরু থেকেই প্রার্থীর সাথে দলের নেতাকর্মীরা সর্বাত্মকভাবে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করে গণজাগরণ তৈরি করেছে। ভোটের দিনে আমাদের ব্যর্থতা রয়েছে। আমরা কেন্দ্রে ছিলাম না, কিন্তু শুধু কি মহানগরই?
সংগঠন গুছিয়ে আন্দোলন বেগবান করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২৫টি থানার মধ্যে ২২টি থানায় ও প্রায় সবগুলো ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকায় মহানগরের নেতাকর্মীরাই অংশগ্রহণ করে সফল করছেন। এমন কোন নেতা নেই যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, এরপরও তারা প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সফল করছেন। কিন্তু আমাদেরই কিছু কিছু নেতা মহানগরকে সফল দেখতে চান না। অন্যদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে চান না। সোহেল বলেন, নতুন কেউ যদি বিএনপিকে ভালোবেসে দলে আসে, শহীদ জিয়ার নামে স্লোগান দিতে চায়, তাকে সাথে নেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনে শামিল করেন। কিন্তু অনেকেই নিজের জায়গা ধরে রাখার জন্য এটি করতে চান না।
সোহেল বলেন, যার নেতৃত্বে, যার হাত ধরে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে, গণতন্ত্রের মুক্তি হবে তাদের পেছনেই দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত। এখন ভেদাভেদ করার সময় নয়, আমরা ৯০’র আন্দোলন করেছি, আমরা জানি কিভাবে স্বৈরাচার সরকারকে হটাতে হয়। সারাদেশের বিএনপি নেতারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে নামতে পারে তাহলে এই সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।
দক্ষিণে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনে ৭-৮ % এর বেশি মানুষ ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয় নাই। তারপরেও দক্ষিণে ২৯% এবং উত্তরে ২৫% ভোট কাস্টিং দেখানো হয়েছে ইভিএমে কারচুপির মাধ্যমে। এই মেশিন যে গ্রহণযোগ্য নয়, ত্রুটিপূর্ণ, এটা প্রমাণিত হয়েছে এই নির্বাচনে। এই নির্বাচনে আমাদের সফলতা হচ্ছে গণতন্ত্র যে দেশে নাই, সেটা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের প্রতি জনগণের এই অনীহা সরকারের প্রতিই অনাস্থা।
তিনি বলেন, আজকে কাউন্সিলর প্রার্থীরা এখানে শপথ গ্রহণ করেছেন ওয়ার্ড-থানাসহ সকল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করে, আরও শক্তিশালী করে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করবে। আমরা আশা করি, ঢাকা মহানগরী সারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে আজকে প্রস্তুত।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আফরোজা আব্বাস, শিরিন সুলতানা, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সুরুজ মিয়া, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, নবী উল্লাহ নবী, রফিক শিকদার।