পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায় কর্মরত ৪ জনের করোনা শনাক্ত

0
228

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাসায় কর্মরত চারজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তার পরিবারের সবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী সেখানে লিখেছেন, ‘২০০০ সালে ডেঙ্গু হয়েছিল আমার, রোজার মাসে। তখন ডেঙ্গু মানে অবধারিত মৃত্যু। সেই সঙ্গে হলো পক্স। এমন অবস্থা মনে হলো হাতে আর দুই একদিন সময় আছে! টানা একমাস অসুস্থতার পর সুস্থ হয়ে ওঠার এক দিন আগে একজন ডাক্তার বাসায় এসে বললেন ডেঙ্গু হয়নি। কে যানে কি হয়েছিলো! আরেকবার ডেঙ্গু হয়েছিল কয়েক বছর আগে, সম্ভবত ২০১৪ সালে। হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো, রক্ত দিলো। আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে সুস্থ হলাম। এর মাঝে ছোট, বড়, মাঝারি আরও অসুখ-বিসুখ হয়েছে। প্রতিবার আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ হয়েছি।’

‘করোনাকালে যতটা সম্ভব সাবধানে থাকার চেষ্টা করেছি। যদিও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম দিকে মাদ্রিদ আর জেনেভা যেতে হয়েছিলো। বিশ্ব তখনও এর ভয়াবহতা বুঝে ওঠেনি। অনেকদিন থেকেই শুনছি পরিচিত মানুষের পরীক্ষা করাচ্ছেন। কেউ কেউ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ হাসপাতালে ভর্তি। মৃত্যুবরণ করেছেন একাধিক পরিচিত ব্যক্তি। তাই আমার বাসার সহকারী মিঠু যখন বললো বাবুর্চি মুসা আর চারজন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে একজনের জ্বর তখন দেরি না করে পরীক্ষা করালাম, নিজেরসহ মোট নয়জনের। ফলাফল এসেছে মুসা ও সেই নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট চারজন পজেটিভ। মানে বাকি দুইজন পজেটিভ হয়েও কোনো লক্ষণ নেই। আমরা বাকিরা নেগেটিভ।’

তিনি লেখেন, ‘গতকাল রাত থেকে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বাড়িতে রোগী রেখেই চিকিৎসা করাতে হবে এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে হবে। কাজটা মোটেই সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি আমাদের সবার জন্য দোয়া করার জন্য। অসুস্থরা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেন এবং নতুন কেউ যেন সংক্রমিত না হন।’

‘গত দুইমাস যেভাবে কাজ করেছি অবশ্যই চেষ্টা করবো সেভাবে বাসায় থেকে কাজ করতে। অজস্র মানুষের বিভিন্ন অনুরোধ আসে আমার কাছে প্রতিদিন, এই সময় মূলত সেটা প্রবাসীদের কাছ থেকে আর অন্যদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশেদের নাগরিকদের কাছ থেকে। এলাকার দেখভারোতো আছেই। সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলুন। ভালো থাকুন সবাই।’

সেখানে অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, ‘একটা ছোট্ট অনুরোধ, আমার বাসার কাউকে দয়াকরে শুধু খোঁজ নেওয়ার জন্য ফোন দেবেন না। তারা সবাই মানসিকভাবে কিছুটা হলেও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এবং নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ব্যস্ত আছেন। আপনার কোনো বার্তা থাকলে তা নিচে লিখে দিতে পারেন অথবা যেকোনো মাধ্যমে সরাসরি আমার কাছে জানান।’

Print Friendly, PDF & Email