ফাঁসির রায় কার্যকরে আট জল্লাদ প্রস্তুত

0
240

ঢাকা: রাজু, আবুল, হযরত, সাত্তার, রনি, ইকবাল, মাসুদ ও মুক্তার- এই আট জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি রায় কার্যকরের জন্য। রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে নিজামীর। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগের দোষ স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমার আবেদন করতে হবে। অবশ্য মতিউর রহমান নিজামী ক্ষমা চাইছেন না বলে জামায়াত ও নিজামীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে ফাঁসির রায় কার্যকরে কোন বাধা থাকবে না। সরকার যেদিন যখন চাইবেন তখনই ফাঁসির রায় কার্যকর করতে পারবে।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, রাজুর নেতৃত্বে ফাঁসির রায় কার্যকরের কথা রয়েছে। তবে যদি কোন কারণে রাজু ফাঁসি কার্যকরে অংশ নিতে না পারেন তাহলে আবুল, হযরত বা সাত্তার এ সুযোগ পাবেন। এর আগে জল্লাদ সর্দার শাহজাহান ভূইয়ার নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য বেশিরভাগ ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। শাহজাহান ১৪৩ বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং ৩৬ বছর ধরে কারাগারে। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন তিনি। তার হাতেই জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, এরশাদ শিকদার, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাঁচ আসামি’সহ বিভিন্ন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

জল্লাদ শাহজাহান ও রাজু অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সেই সঙ্গে সুঠাম দেহ ও অধিক মনোবলের কারণে জল্লাদদের তালিকায় তাদের নাম প্রথমে রাখা হয়। তবে জল্লাদ শাহজাহানের বয়স হয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তার হাতে। তাই এবার অন্যদের সুযোগ দেওয়া হবে। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের সময় শাহজাহানের সহযোগী হিসেবে ছিলেন রাজু।

২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল আরেক জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে ভূমিকা রাখেন জল্লাদ রাজু। রাজু ১৫ বছর ধরে কারাগারে আছেন। তালিকা অনুসারে কর্তৃপক্ষের নজরে অন্য যারা রয়েছেন তারাও প্রশিক্ষিত। এ ছাড়াও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে একবার মহড়া দেওয়া হবে। তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কার নেতৃত্বে, কে কে ফাঁসি কার্যকরে ভূমিকা রাখবেন।

Print Friendly, PDF & Email