Home বিশেষ সংবাদ টাকার অভাবে এমপিও বন্ধ, সংসদে তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী

টাকার অভাবে এমপিও বন্ধ, সংসদে তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী

333
0

ঢাকা: টাকার অভাবে বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদরাসা এমপিওভুক্তি (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) হচ্ছে না। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। এমপিরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার তাগিদ দিচ্ছেন। এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় সংসদে এমপিদের তোপের মুখে পড়ছেন। এমপিরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার তালিকা দেয়ার পরও তা না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

২০১০ সালে সর্বশেষ ১ হাজার ৬২৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। ২০১১ সালে ১০০০ স্কুল-মাদরাসা এমপিওভুক্তি করার ঘোষণা দেয়া হলেও তা করা হয়নি। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে ২০১১ সাল থেকে। এতে নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভীষণ কষ্টে দিন কাটছে। এমপিওভুক্তির দাবিতে অন্তত ২০ বার আন্দোলন হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাসও মিলেছে। কিন্তু এমপিওভুক্ত করা হয়নি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এমপিওভুক্তির জন্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ সংশোধন করা হচ্ছে। এতে শতকরা ৫০ ভাগের স্থলে শতকরা ৮০ ভাগ সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা সহকারী প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন।

বর্তমানে দেশে ২৭ হাজার এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৮ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৫ জন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কুল ১৬ হাজার ১১৮টি, কলেজ ২৩৭০টি এবং মাদরাসা রয়েছে ৭ হাজার ৫৯৭টি। অভিযোগ আছে, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৩ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপ্রয়োজনীয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলও অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। তারপরও এমপিওভুক্ত হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে প্রতি মাসে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।

অন্যদিকে এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা উচিত তার সব থাকা সত্ত্বেও সাত হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। রাজনৈতিক বিবেচনা, স্থানীয় এমপির সুপারিশ ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা, অবস্থানগত দিক, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় আনা হয়েছে। নতুন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়েকবার প্রয়োজনীয় টাকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড় দেয়ার ব্যাপারে কোনো সবুজ সঙ্কেত দেয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় অনেক পুরনো প্রতিষ্ঠানও দীর্ঘদিন এমপিওবঞ্চিত থাকছে। দলীয় প্রভাব কিংবা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র সাইনবোর্ডধারী প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। বহু পুরনো ও যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ছে। এতে এমপিও খাতে কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করা ননএমপিও শিক্ষকদের নেতা এশারত আলী বলেন, আমরা মনে করি শিক্ষামন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর ওপর ভরসা করা যাবে না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। এমপিওভুক্তির দাবিতে জানুয়ারি মাসেও আমরা আন্দোলন করেছিলাম। তিনি বলেন, আগে যোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হোক। এর পর শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রথমে পাঠদানের অনুমতি দেয়া হয়, এরপর একাডেমিক স্বীকৃতি। তারপর শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যোগ্যতা মূল্যায়নের পরই এমপিওভুক্ত করা হয়। কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০০৪ সালের শেষের দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ২০১০ সালে সর্বশেষ এমপিওভুক্ত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, অনেক এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে যেগুলো এক কথায় প্রয়োজন নেই বলা যায়। শিক্ষক আছে, শিক্ষার্থী নেই। লেখাপড়া হয় না। এসব প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা যায় কি না সেটি ভাবা হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির নীতিমালা হচ্ছে: কঠিন শর্ত আরোপ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি নীতিমালা করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ না হলে এর জন্য বিবেচনা করা হবে না। এমপিওভুক্তির জন্য আগে পাবলিক পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ পাসের হারের শর্ত ছিল। এখন ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার জন্য ৭০ শতাংশ এবং একাদশ থেকে পঞ্চদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৬০ শতাংশ পাসের হার নির্ধারণ করা হবে।

পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত নতুন বিষয়ে শিক্ষকদের এমপিও দেয়া হবে। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি ও সামাজিক বিজ্ঞান-এ তিন বিষয়ের জন্য শিক্ষকের পদ রয়েছে মাত্র একটি। সংশোধনীতে প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি করে শিক্ষকের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি ও গার্হস্থ্য বিষয়ের জন্য শিক্ষক পদ আছে একটি। এর জন্য আরেকটি শিক্ষক পদের প্রস্তাব করা হয়েছে। আবশ্যিক বিষয় হিসেবে সংযুক্ত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ এবং ‘চারু ও কারুকলা’ বিষয়ে শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হবে। এমএলএসএস (দারোয়ান/মালী/ঝাড়ুদার) পদ বাড়ানো হবে।

Previous articleঅনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
Next articleস্তাবিত বাজেট উচ্চাভিলাসী ও রাজস্ব আদায় কষ্টসাধ্য হবে: বিশ্বব্যাংক